1. ajkerkonthosornews@gmail.com : Rafiqul Jasim : Rafiqul Jasim
  2. admin@ajkerkonthosor.com : admin2 :
  3. abdulkhaleque1977@gmail.com : abdul khaleque : abdul khaleque
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লি – গঠনতন্ত্র

  • সময় : বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪৪ ভিউ

উন্নয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেড

শুকুর উল্লার গাঁও,  কমলগঞ্জ

ভূমিকা : ২০২২ সালের আগামী অক্টোবর মাসের ১ তারিখ হতে কমলগঞ্জ উপজেলাধীন  শুকুর উল্লার গাঁও  এলাকার গ্রামের কিছু উদ্যোগী তরুন নিয়ে উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে আমাদের সংগঠনের পথচলা শুরু হয়৷

আমাদের কর্মীদের প্রধান লক্ষ্য হবে গ্রামের মানুষের সেবা, গরীব মানুষের সেবা করা। আমরা যতদিন এই কথা মেনে চলব ততদিনই এ প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হতে থাকবে। বর্তমানে আমাদের উন্নয়ন সমিতিটির হিসাব অন-লাইনে সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ফলে সমিতির সদস্যরা যেকোন সময়ে তাহাদের সর্বশেষ হিসাব মুহুর্তে জানতে পারে। এতে সমিতির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি স্বল্প সময়ে সমিতির হিসাব সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

গঠনতন্ত্র

পরিচ্ছদ এক

১.১ ধারা: প্রতিষ্ঠানের নাম:
উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড
১.২ ধারা:  প্রতিষ্ঠানের মূলনীতি – সঞ্চয়, সমৃদ্ধি, একতা, শক্তি
১.৩ ধারা: প্রতিষ্ঠার তারিখ: ০১/০/২০২২ ইংরেজি
১.৪ ধারা: লক্ষ্য উদ্দেশ্য : ১) সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত করে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমবায় সংগঠন ভিত্তিক পরিকল্পিত জীবন যাপনের লক্ষ্যে সমিতির সদস্যদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে সদস্যদের এবং সমষ্টিগতভাবে সমিতিকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে গড়ে তুলে সমিতির সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ব্যবস্থা করা।

২) সদস্যগণের স্বার্থে সমাজকল্যাণমূলক, শিক্ষামূলক, জনহিতকর ও অন্যান্য কার্যক্রম সমবায় সমিতি আইন ও বিধিমালার আলোকে গ্রহণ করা।
৩) সদস্যগণকে সঞ্চয় করার অভ্যাস ও সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করতে এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহ দেওয়া এবং সঞ্চয়ের মাধ্যমে তহবিল গঠন করা।
১.৪. ধারা: কার্যক্রম :  এ উদ্দেশ্যসমূহকে বাস্তবায়িত করতে সমিতিকে নিম্নলিখিত পর্যায়ে কার্যকরী মূলধনের ব্যবস্থা করা।

ক) সদস্যদের ভর্তি ফি সংগ্রহ;
খ) সদস্যদের বার্ষিক চাঁদা সংগ্রহ;
গ) সদস্যদের সমিতির অংশগত শেয়ার ক্রয়;
ঘ) সদস্য হতে আমানত গ্রহণ করা;
ঙ) সরকারী, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা বা আন্তর্জাতিক সংস্থা হইতে অনুদান লাভ করা;
চ) সমবায় বা অন্য তফসিলি ব্যাংক হইতে ব্যবসার জন্য কর্জ গ্রহণ ও লেনদেন করা;
ছ) সদস্যদিগকে ঋণ প্রদান করার জন্য মূলধন সংগ্রহ করা;

১.৫ ধারা: উন্নয়ন সমবায় সমিতির প্রকল্প সমূহ:​

ক.দৈনিক সঞ্চয় প্রকল্প।
খ.মাসিক জমা (ডিপিএস) প্রকল্প।
গ.আমানত বিনিয়োগ(এফডিআর) প্রকল্প।
ঘ.আমানতের দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন প্রকল্প।
ঙ.উন্নয়ন খাত ও দারিদ্র বিমোচন জন্য ঋণ সহায়তা প্রদান প্রকল্প।
চ.উদ্যোক্তা ঋণ প্রকল্প।

পরিচ্ছদ দুই

২.১ ধারা :  সদস্য ভর্তি ঋণপ্রদান পদ্ধতি:

কোন ব্যক্তিকে ভর্তি করা হলে সদস্য তালিকা আ্যাপে  বা মেম্বার রেজিস্টারে তার নাম, তার পিতার নাম , ঠিকানা , সদস্য হবার তারিখ ( সঞ্চয় জমা তারিখই সদস্য হবার তারিখ), মনোনীত ব্যক্তি বা নমিনির নাম (নমিনি যেন ঐ সমিতির সদস্য না হয়ে অন্য কেহ হন সেদিকে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে লক্ষ্য রাখতে হবে) লিপিবদ্ধ করতে হবে এবং স্বাক্ষর কলামে তার স্বাক্ষর নিতে হবে । কাউকে সদস্য করার সময় সমিতি ভর্তিফরম ফিসহ অন্যান্য ফিও আদায় করতে পারবে। সমবায় সমিতির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আইনী জটিলতা এড়াতেই অসদস্য ব্যক্তির সাথে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে ।

২.২ ঋন গ্রহনের সময়সীমাঃ একজন সদস্য সমিতিতে ভর্তি হওয়ার কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ পরে ঋনের আবেদন করতে পারবে। এই ৬ সপ্তাহ তার কাছ থেকে নিয়মিত সঞ্চয় নিতে হবে। এই ৬ সপ্তাহের সঞ্চয় প্রদানের উপর ভিত্তি করে সদস্যের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। তাকে ভবিষ্যতে কি পরিমান ঋন দেওয়া হবে তাও নির্বাচন করা হবে। কারন লেনদেনেই মানুষের বৈশিষ্ট প্রকাশ করে।

২.৩ ঋন গ্রহনের সময় সঞ্চয় শেয়ার ও জামানতের হারঃ প্রতি হাজারে ৬% জমা থাকতে হবে। যে কোন প্রকার ঋনের জন্য অবশ্যই একটা শেয়ার ক্রয় করতে হবে। সকল ঋণ ১০% হারে বিতরণ করা হয়।

২.৪  সঞ্চয় ফেরত ও উত্তোলনের শর্তঃ কোন সদস্য তার জমাকৃত সঞ্চয়ের ৯০% উত্তলন করতে পারবে। যদি কোন সদস্য সঞ্চয় ফেরত নিতে চাই তবে, তবে তা এক সপ্তাহ প‚র্বে সমিতির অফিস জানাতে হবে। সঞ্চয় ফেরতের সময় সদস্যের জমাকৃত সঞ্চয় থেকে একশত টাকা কর্তন করে রাখতে হবে। এবং সঞ্চয় ফেরতের সাথে সাথে তার সদস্য পদ বাতিল করতে হবে। সঞ্চয় ফেরতকারীর বই সর্বনিম্ন এক বছর অফিসে জমা রাখতে হবে। শেয়ার ক্রয়কারী কোন সদস্য যদি সঞ্চয় ফেরত নিতে চাই তাবে তার শেয়ার হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত তার কোন টাকা ফেরত দেওয়া যাবে না।

২.৫  ঋন প্রদানের দায়িত্বঃ ঋন প্রদানের মূল দায়িত্ব ম্যানেজারের। উল্লেখ থাকে যে, প্রতিষ্টানের সকল অফিসিয়াল দায়-দায়িত্ব ম্যানেজারের। তবে ঋনের ক্ষেত্রে ফরম ও ব্যক্তি যাচাই বাচাই করবে ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক। বিশেষ ভাবে উল্লেখ থাকে যে, সকল কাগজপত্র (যেমন,ঋন ফরম, ভর্তি ফরম, স্টাম্প, চুক্তি নামা ইত্যাদি) ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য স্বাক্ষরিত হতে হবে।

২.৬  খেলাপী কিস্তিঃ সমবায় বিধি ২০১৩ মোতাবেক খলাপী কিস্তির উপর জরিমানা করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি দশ হাজার টাকার কোন কিস্তি এক সপ্তাহ খেলাপী থাকে তাহলে তার ২০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। অনুরুপভাবে ১৫ হাজার হলে ৩০ টাকা,২০ হাজার হলে ৪০ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এবং প্রতি সপ্তায় ইহা বৃদ্ধি পাবে। যদি কোন সদস্য পরপর দুই সপ্তাহ কিস্তি দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সেটা সভাপতিকে জানাতে হবে। অন্যথায় ম্যানেজার কে জবাবাদিহি করতে হবে। উপরিউক্ত একটি ফরমে লিখিয়া ঋনপ্রদানের সময় সদস্য দ্বারা স্বাক্ষর করে নিতে হবে। *** ম্যানেজার যেকোন সময় সমিতির যে কোন প্রকার তথ্য দিতে বাধ্য থাকিবে।

পরিচ্ছদ ৩

৩.১ ধারা : ব্যবস্থাপনা কমিটির প্রক্রিয়া

১) মন্যাজার নিয়োগ করা
২) উপদেষ্টা মন্ডলীর গঠন
৩) ১১ সদস্যদের কমিটির গঠন

৩.২ ধারা : ব্যাবস্থাপনা কমিটি কাজ :

০১) লোন গ্রহণকারীর নিকট থেকে উপযুক্ত পরিমাণ জামানত রাখতে হবে । কি পরিমাণ ঋণের জন্য কি ধরণের জামানত গ্রহণযোগ্য হবে ব্যবস্থাপনা কমিটি উহা সভা করে ঠিক করবেন ( সভায়) ।
০২) ব্যবস্থাপনা কমিটি ঋণ প্রদানের জন্য ফরম তৈরি করে রাখবেন ।
০৩) ফরমে ঋণ গ্রহণকারীর বার্ষিক আয় ও বার্ষিক ব্যয় , তার সম্পত্তি ও দেনার পরিমাণ , ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্য উল্লেখ খাকবে । কত কিস্তিতে এবং প্রতি কিস্তি কত টাকা করে লোন পরিশোধ করতে হবে তাও ফরমে উল্লেখ থাকবে ।
০৪) কিস্তির পরিমাণ যেন ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তির বার্ষিক আয়ের উদ্বৃত্ত অর্থের অতিরিক্ত না হয় ।
০৫) ঋণের কিস্তি আদায়কারী কোন কর্মচারীকে কিস্তি আদায়ের কোন উৎসাহ ভাতা বা কমিশন বা ফি দেওয়া যাবে না ।
০৬) যে উদ্দেশ্যে ঋণ দেওয়া হয়েছে সে উদ্দেশ্যে উহা ব্যবহার করা হচ্ছে কি না , ব্যবস্থাপনা কমিটিকে উহার মনিটরিং/পর্যবেক্ষণ করতে হবে । ঋণ গ্রহণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী উহা ব্যবহার করা না হলে ব্যবস্থাপনা কমিটি ঋণের অর্থ উহা পরিশোধ করবার মেয়াদ শেষ হবার প‚র্বেই লিখিতভাবে ফেরত চাইতে পারবে ।
০৭) একজন সাধারণ সদস্যকে ঋণ পাবার জন্য যে সব শর্ত প‚রণ করতে হয় , ব্যবস্থাপনা কমিটির কোন সদস্য যদি ঋণ নিতে চান , তাকেও অনুরূপ শর্ত প‚রণ করে ঋণ নিতে হবে । ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হবার কারণে তিনি অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন না ।
০৮) যিনি ঋণ নিতে চাচ্ছেন তার উক্ত ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য রয়েছে কি না ব্যবস্থাপনা কমিটিকে উহা অবশ্যই বিবেচনা করতে হবে ।
০৯) বার্ষিক শতকরা কত টাকা হারে ঋণের জন্য সুদ নেওয়া যাবে সে ব্যাপারে সরকারী নিয়মনীতি বিশেষ করে সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক / মহা পরিচালক মহোদয় কর্তৃক জারীকৃত লেটেস্ট সার্কুলার অনুসরণ করতে হবে ।
১০) নিবন্ধক, সমবায় অধিদপ্তর মহোদয় কর্তৃক জারীকৃত ১৭/০৪/২০১৩ খ্রিঃ তারিথের ১৮৩ নং সার্কুলারের প্রেক্ষিতে প্রদেয় ঋণ বা বিনিয়োগের উপর বার্ষিক সর্বোচ্চ ৩০% হারে সার্ভিস চার্জ আরোপ করা যাবে ।
১১) ঋণ সংক্রান্ত তথ্য লোন রেজিস্টারে সংরক্ষণ করতে হবে ।

৩.৩ ধারা:  উন্নয়ন সমিতি পরিচালনার বিশেষ কিছু নিয়মাবলি

১) সমিতির প্রতিদিনের কার্জক্রম দৈনিক তথ্য শীটে লিপিবদ্ধ করতে হবে।
২) দৈনিক আদায় শীট ভালভাবে পর্যবেক্ষন করতে হবে।
৩) প্রতিদিন আদায়যোগ্য ও আদায়কৃত সমন্বয় করতে হবে।
৪) দৈনিক আদায় রেজিষ্টার থেকে সকল বিষয় সাব রেজিষ্টারে পোষ্টিং দিতে হবে। যেমন- সঞ্চয় রেজিষ্টার, শেয়ার রেজিষ্টার, ঋণ রেজিষ্টার, সদস্য রেজিষ্টার, ঋণবীমা রেজিষ্টার, বই রেজিষ্টার, ভর্তি রেজিষ্টার ইত্যাদি।
৫) প্রতি মাসের একটি জেনারেল লেজার তৈরী করতে হবে।
৬) প্রতি মাসে অন্তত একটি ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভার ব্যবস্থা করতে হবে।
৭) মাসিক সভার রেজুলেশন করতে হবে।
৮) খেলাপী কিস্তি আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
৯) সমিতির প্রতিদিনের আদায় টাকা, ঋন বিতারন করতে হবে। ৫০০ টাকার বেশি অফিসে জমা রাখা যাবে না।
১০) সমিতির খরচের খাত গুলো শিরোনাম উল্লেখ পূর্বক আলাদা আলাদা রেজিষ্টারে লিখতে হবে।
১১) সমিতির প্রতিটা খরচের জন্য ভাউচার থাকতে হবে এবং সে ভাউচার কোষাধাক্ষ্য দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।
১২) সকল প্রকার ভাউচার ও রশিদ সমিতিতে সর্বোনিম্ন ৬ বছর সংরক্ষন করতে হবে।
১৩) কোন সদস্য ঋন নিতে চাইলে সর্ব নিম্ন দুই সপ্তাহ আগে ঋন ফরম প‚রন করতে হবে। এবং সেটা ঋণ অনুমোদন কমিটি দিয়ে অনুমোদন করতে হবে। যৌথ স্বাক্ষরিত হতে হবে।
১৫) প্রয়োজনে ব্যাবস্থাপনা কমিটির মতামতের ভিত্তিতে আইন পরিবর্তন করা যেতে পারে।”

পরিচ্ছদ ৪ ধারা:  উন্নয়ন সমবায়ের ১০টি নীতিমালা

১. বাধ্যতামূলক উপস্থিতির ভিত্তিতে সাপ্তাহিক সভা করা (সমিতির প্রাণ)।
২. নগদ টাকায় এবং দ্রব্যাদির মাধ্যমে নিয়মিত আমানত করা (সমিতির শক্তি)।
৩. একজন বিশ্বস্ত লোককে ম্যানেজার রূপে নিযুক্ত করা (নেতৃত্ব)।
৪. ভালভাবে হিসাব ও রেকর্ড রাখা।
৫. যৌথভাবে উৎপাদন ও অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা।
৬. তদারকী ঋণ গ্রহণ ব্যবহার ও সময়মত পরিশোধ করা।
৭. উন্নত প্রথা ও দক্ষতা ব্যবহার করা।

রফিকুল ইসলাম জসিম ০১৭৭৯৬৬৬৯৩২.




Please Share This Post in Your Social Media

এই ক্যাটাগরি আরোও পড়ুন
© All rights reserved 2022 Ajkerkonthosor.com
Developed By Radwan Web Service