1. ajkerkonthosornews@gmail.com : Rafiqul Jasim : Rafiqul Jasim
  2. admin@ajkerkonthosor.com : admin2 :
  3. abdulkhaleque1977@gmail.com : abdul khaleque : abdul khaleque

র‌্যাগ- ডে’র নামে অশ্লীলতা, কোন পথে শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা!

  • সোমবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২১
  • ২২২ View

রফিকুল ইসলাম জসিম,

গণমাধ্যমকর্মী,

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শেষ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষার্থীরা এ দিনে নানা আয়োজন করে থাকেন। শিক্ষার্থীদের কাছে দিনটি র‌্যাগ-ডে নামেও পরিচিত। এক সময় শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগ-ডে পালন করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসএসসি,  শিক্ষার্থীদের বিদায়ী অনুষ্ঠানকেও র‌্যাগ-ডে হিসেবে পালন করতে দেখা গেছে।

গতকাল থেকে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে গত সপ্তাহজুড়ে আমাদের এলাকায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের র‌্যাগ-ডে পালনের খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের শরীরের পরিধেয় টি-শার্টে লেখা বেশকিছু ইংরেজি শব্দ। যেগুলো দেখেই বিব্রত হচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে সেই লেখা যুক্ত ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। শুরু হয়েছে সমালোচনার ঝড়।

শিক্ষার্থী র‌্যাগ-ডে পালন করছে – ছবি

প্রত্যক্ষদর্শী ও কলেজ সূত্রে জানা যায়, স্কুল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা সাদা রঙের টি’শার্ট পরিধান করে। টি’শার্টে প্রত্যেকেই স্মৃতির জানালা থেকে উঁকি দিয়ে লিখেন মধুময় স্মৃতি কথা। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিজেদের টি’শার্টে লিখেছেন অশ্লীল ইংরেজি শব্দ। এসব ইংরেজি শব্দ কোন সংস্কৃতি থেকে এনেছেন কিংবা কেনোই ব্যবহার করছেন তা জানেন না সেই শিক্ষার্থীরাও।

এতে ছেলে মেয়ের মাঝে কোন ধরনের পার্থক্য না করে বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি গানে নাচানাচি, একে অপরকে রং মাখিয়ে দেওয়া, অন্যের কাপরে অশালীন বাক্য লিখে দেওয়া-সহ বেশকিছু ঘটনা চোখে পড়েছে যা দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিরোধী।

এসব দেখে কেউ আবার বলেছেন, নৈতিকতা ও সংস্কৃতি যখন আধুনিকতার নামে বন্দী করা হয়েছে, তখন অপসংস্কৃতির ভয়ানক অপব্যবহার গ্রাস করে নিচ্ছে শিশু-কিশোর তরুণ-যুবকদের। একসময় এসএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বড়দের দোয়া এবং ধর্ম পালন করে ভালো রেজাল্টের চেষ্টা করত; আজ সেখানে গান নাচ নষ্টামির মাধ্যমে উল্লাস করতে দেখা যায় র‌্যাগ-ডে নামক অনুষ্ঠানে।

‘একজন শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এসব ঘটছে তাই সচেতনতা তৈরিতে অভিভাবকের থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বেশি; ‘র‌্যাগ- ডে’র নামে যা কিছু ঘটছে এসব অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনের বাইরে ঘটে থাকে, তাই এসবের জন্য শিক্ষার্থীদের যথাযথ জবাবদিহীতার আওতায় আনার মাধ্যমেও তা বন্ধ হতে পারে’। শিক্ষার্থীদের এমন কিছু কখনোই করা উচিত নয় যা অন্যের চোখে নিজের জন্য লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং বাবা-মাকে পরবর্তীতে এর কারণে অপমানবোধ করতে হয়।

প্রসঙ্গত, র‌্যাগ- ডে’ যদিও ঠিক কীভাবে, কবে থেকে এর উৎপত্তি সে সম্পর্কে বিশদ জানা যায় না। তবে অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে ১৮৬৪ সালের পূর্বে ‘র‌্যাগ’ শব্দটি ছিল না। এবং এ প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি মতামত পাওয়া যায়। একপক্ষের মত হলো- র‌্যাগ আসলে গ্রিক সংস্কৃতি থেকে এসেছে। সপ্তম-অষ্টম শতকে খেলার মাঠে খেলোয়াড়দের মনোবল বৃদ্ধির জন্য র‌্যাগিং নামক এক ধরনের উৎসবের প্রচলন শুরু হয়। ইউরোপে এর প্রচলন ঘটে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি। ১৮২৮-১৮৪৫ সালের দিকে র‌্যাগ উইকের প্রচলন ঘটে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন ছাত্র সমিতি এর প্রচলন ঘটায়। মজার ব্যাপার হলো, ইউরোপ-আমেরিকায় এর যাত্রা হলেও বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশে এর ব্যবহার সর্বাধিক।

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন আজকের কন্ঠস্বর নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - editorajkerkonthosor@gmail.com

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ পড়ুন
© ২০২০ | আজকের কন্ঠস্বর কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত
Developed By Radwan Ahmed