1. ajkerkonthosornews@gmail.com : Rafiqul Jasim : Rafiqul Jasim
  2. admin@ajkerkonthosor.com : admin2 :
  3. abdulkhaleque1977@gmail.com : abdul khaleque : abdul khaleque

সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন জানালেন, মাধ্যমিকের প্রথম শ্রেণি গেজেটেড পদমর্যাদায় পদোন্নতিপ্রাপ্ত মণিপুরি মুসলিমদের ৬ আলেম দ্বীন

  • সোমবার, ১২ জুলাই, ২০২১
  • ৩৩০ View

রফিকুল ইসলাম জসিম

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি মাধ্যমিকে সিনিয়র শিক্ষক পদে মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের ১৩ কৃতি সন্তান পদোন্নতি পেয়েছেন এর মধ্যে আলিয়া মাদ্রাসার পড়াশোনা ৬ জন আলেম দ্বীন হলেন,হাফেজ মুফতি মোঃ করিম উদ্দিন , মাওলানা মোঃ নাসির উদ্দিন, আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ গোলাম রাব্বানী,মাওলানা মোঃ হামিদুল ইসলাম, মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা মোঃ জুমের আলী। তাদের সাথে পদোন্নতি পেয়েছেন আরো মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ে৭ জন শিক্ষক তারা হলেন মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ শাহাজ উদ্দিন, মোঃ আশরাফ মোহিত, মোঃ মোস্তাক আহম্মদ, সুরাইয়া বেগম ও মোঃ বদরুল ইসলাম ।

প্রথম শ্রেণি -গেজেটেড, ৯ম গ্রেড, পদে পদোন্নতি পাওয়া ৬ জন আলেম দ্বীন তারা বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড হতে(আলিয়া মাদরাসা)কামিল পাশ করে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক ও বিএড ডিগ্রি অর্জন পূর্বক শর্ত পূরন করে এ পদন্নোতি পেয়েছেন। বাংলাদের সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশ করা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত ৫ হাজার ৪৫২ জন সহকারী শিক্ষককে সিনিয়র শিক্ষক (৯ম গ্রেডে ১ম শ্রেণির নন–ক্যডার) পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।এতে জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ২২ জন শিক্ষককে ৯ম গ্রেড, প্রথম শ্রেণি -গেজেটেড, পদে পদোন্নতি পেয়েছে। এদের মধ্যে মণিপুরি মুসলিম সম্প্রদায়ের ১৩ জন শিক্ষকও রয়েছে । এছাড়া অপর আরেকজন উপরোক্ত শর্ত সমূহ পুরন পূর্বক পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন হযরত মাওলানা মোঃ রশিদ উদিন।

মাদ্রাসা পড়াশোনা করা সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করা হয় কিনা…এমন প্রশ্নের জবাব দিয়ে আলহাজ্ব মাওলানা গোলাম রাব্বানী বলেন, কোনো পার্থক্য করা হয় না৷ কেনো কোনো ক্ষেত্রে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এগিয়ে থাকেন৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায়ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপরের দিকে থাকেন৷ মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার পাঠ্যসূচি ও পাঠক্রম যেহেতু একইরকম তাই পার্থক্যের কোনো কারণ নেই৷ তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারও হচ্ছেন৷ বাকিটা নির্ভর করে ব্যক্তির যোগ্যতা ও দক্ষতার ওপর৷

আলিয়া মাদ্রাসার পড়াশোনা করা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কোন কোন বিষয় পাঠদান করেন? মাওলানা মোঃ হামিদুল ইসলাম বললেন়, আমাদের নিয়োগ পত্রে লেখা আছে যে বিষয়ভিত্তিক নিয়োগ তা হলেও যে কোন বিষয় পড়াইতে বাধ্য থাকিবে। সুতরাং আমার বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ের ক্লাস নিতে হয়। অধিকাংশ সরকারি স্কুলে বিভিন্ন বিষয়ের পদ শূন্য থাকায় তাদের ঘাটতি ক্লাসগুলো আমাদের নিতে হয়। ব্যক্তিগতভাবে আমি গণিত বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ৭ম শ্রেণির শ্রেণিশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছিলাম।বর্তমানেও বাংলা বিষয় নিয়ে ৮ম শ্রেণির শ্রেণি শিক্ষকের দায়িত্বে আছি। তাছাড়া সরকারি হাইস্কুলে আইসিটি বিষয়ক পদ সৃষ্টি না থাকায় কর্মরত শিক্ষকের মধ্য থেকে যারা এ বিষয়ে দক্ষ তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হয়। আমি নিজেই এ বিষয়ে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ (ফিলিপাইন
থেকে ২০১৯ সালে ১৫দিনের) গ্রহণ করেছি। এছাড়াও অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজেও সক্রিয় অংশ গ্রহণ করতে হয়।

বাংলাদেশের প্রধান এই দুই ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম, ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা ও রীতিনীতি সম্পর্কে দক্ষ করে তোলা। দুই ধরনের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। এসব মাদ্রাসায় পাঠ্যক্রমে মূল মনোযোগ দেওয়া হয়েছে ধর্ম বিষয়ে। ফলে, এসব মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণমূলক চিন্তার দক্ষতা গড়ে ওঠে না এবং তারা চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের মতো বিশেষায়িত বিষয়গুলোতে পড়ার মতো যোগ্যতাও তাদের তৈরি হয় না।অন্যদিকে, আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্য ছিল ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা।

কিভাবে শেখানো হয় আলিয়া মাদ্রাসায় গুলোতে মাওলানা মোঃনাসির উদ্দিন, মাওলানা মোঃ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা মোঃ জুমের আলী তারা জানায়, আলিয়া মাদ্রাসায় ইবতেদায়ি থেকে কামিল পর্যন্ত ১৬ বছরের পড়ালেখায় রয়েছে পাঁচটি ধাপ। ইতবেদায়ি বা প্রাথমিক পর্যায়ে কোরান শরিফ পড়া ও মুখস্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এই পর্যায়ের অন্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামের মৌলিক বিষয়, আরবি, বাংলা, গণিত, ইতিহাস, ভূগোল ও সাধারণ বিজ্ঞান।দাখিল (মাধ্যমিক) পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কোরান পড়া ও মুখস্ত করার সঙ্গে যুক্ত হয় কোরানের বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা বা তাফসির। এই পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থীদের আরবি, ইসলামি দর্শন, ইসলামি আইন ও তত্ত্ব এবং এগুলোর ব্যবহার পড়ানো হয়।

আলিয়া মাদ্রাসাগুলোর পাঠ্যসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সাধারণ বিভাগে শিক্ষার্থীদের ইসলামি শিক্ষা, কলা ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়। তাদের পাঠ্যসূচিতে কোরান, আরবি, ইসলামের ইতিহাস ছাড়াও রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি)।বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, জীববিজ্ঞান ও আইসিটি পড়ানো হয়। অন্যদিকে, মুজাব্বিদ বিভাগের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য সাধারণ বিষয়ের সঙ্গে পড়ানো হয় তাজবিদ। বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে সঙ্গে সঙ্গে পড়তে হয় কোরান, হাদিস, ইসলামি আইন ও আরবি।

আলিম (উচ্চ মাধ্যমিক) পর্যায়ে বিজ্ঞান বা কলা বিভাগকে বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের জন্য। উভয় বিভাগের শিক্ষার্থীদেরই কোরান ও হাদিস, ইসলামি আইন, শরিয়া আইন, উত্তরাধিকার আইন ও ইসলামের ইতিহাস পড়তে হয়। অন্যদিকে, কলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের আরবি ও ফার্সি ভাষা এবং বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয় পড়তে হয়।

স্নাতক পর্যায়ে ফাজিল কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও কলা বিভাগের বিষয়গুলো আলাদা আলাদা করে শেখানো হয়। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের কামিল কোর্সে কোরআন(তাফসির),হাদিস, ফিকাহ(মুফতি) ও আদিব(আরবি সাহিত্য) আলাদা ভাবে ৪টি শাখায়/বিষয়ে পড়ালেখা হয়।

মাদ্রাসার যে-কোনো পর্যায় থেকে সাধারণ শিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ আছে? সুযোগ আছে এবং অনেকেই এখান থেকে সাধারণ শিক্ষায় যাচ্ছেন৷ মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের যে-কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন৷ মেডিক্যালে ভর্তি হচ্ছেন৷ এমনকি বুয়েটেও ভর্তি হচ্ছেন৷বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা এখন যথেষ্ট আধুনিক বলে দাবি করেন হাফেজ মুফতি মোঃ করিম উদ্দিন । এ পদোন্নতি বিষয়ের শ্রীমঙ্গল সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হাফেজ মুফতি মোঃ করিম উদ্দিন জানায়, দীর্ঘদিন একই পদে চাকরি করা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের সমস্যা শেষ ছিল না৷ ওপরের দিকে পদ না থাকায় সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করে এ পদেই অবসরে যেতেন৷ আবেদনের পর জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক পদ সৃষ্টি হলেও নানা জটিলতায় সেই পদোন্নতি না হাওয়ার সাড়ে তিন বছর হতাশ ছিলাম৷ পদোন্নতি জট খোলায় শিক্ষকরা উল্লসিত।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রদানের জন্য তারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, বর্তমান শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় মানবিক প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা, শিক্ষা বান্ধব সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি এবং মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সুযোগ্য শিক্ষা সচিব জনাব মো. মাহবুব হোসেন মহোদয় সহ পিএসসির চেয়ারম্যান মহোদয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মান্যবর মহাপরিচালক মহোদয়, পরিচালক ( মাধ্যমিক) মহোদয়, উপ-পরিচালক মহোদয় সহ পদোন্নতি কাজে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন৷

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন আজকের কন্ঠস্বর নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - editorajkerkonthosor@gmail.com

এই ক্যাটাগরির আরও সংবাদ পড়ুন
© ২০২০ | আজকের কন্ঠস্বর কর্তৃক সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত
Developed By Radwan Ahmed